
সাতটি পদ ও তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা
নিচে প্রতিটি পদের ভূমিকা ও দায়িত্ব বিস্তারিতভাবে দেখানো হলো:
মাঝি (Majhi / Manjhi)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : তিনি গ্রাম পরিষদের সব বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। (Islam & Rahman, 2018, pp. 1-10) গ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বংশগত সমস্যা সমাধান এবং সামাজিক নিয়ম ভাঙলে শাস্তি নির্ধারণ করা তার দায়িত্ব। আন্তঃগ্রাম বিরোধে তিনি গ্রামের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বিয়ে বা উৎসবের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
পারানিক /Paranik (সহকারী প্রধান / বিচারক)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : তিনি মাঝির প্রধান সহকারী ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। (Chatterjee, 2018, pp. 45-67) মাঝি উপস্থিত না থাকলে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। মাঝি মারা গেলে তিনি উত্তরাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি কুলহি দুড়ুপ-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ বিচারকও।
জগমাঝি /Jog Majhi (যুব ও নৈতিকতা রক্ষক)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : তিনি গ্রামের যুবক-যুবতীদের নৈতিক আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব নেন। (Das & Ghosh, 2018, pp. 123-145) তিনি প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে ঐতিহ্য ও গোপনীয়তা যুব সমাজে পৌঁছে দেন। দরকার হলে তিনি যুবকদের সামাজিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
জগ পরানিক /Jog Paranik (সহকারী যুব ও নৈতিকতা রক্ষক)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : জগ মাঝি উপস্থিত না থাকলে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামের যুবকদের কার্যক্রম এবং নৈতিকতা বজায় রাখতে তিনি যোগ মাঝিকে সাহায্য করেন। (Chatterjee, 2018, pp. 123-145)
গডেৎ /Godet / Godait (সচিব ও বার্তাবাহক)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : তিনি গ্রামপ্রধানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। গ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত তিনি গ্রামবাসীর কাছে পৌঁছে দেন এবং প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগে গ্রামের একজন সেনানীর মতো কাজ করেন। (Khan & Kumar, 2018, pp. 123-145)
নায়কে /Naeke (প্রধান গ্রাম্য পুরোহিত)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : এটি একটি ধর্মীয় পদ। তিনি গ্রামের সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করেন এবং জাহের থান-এ পূজা পরিচালনা করেন। (Deshwara, 2025)
কুডাম নায়কে /Kudam Naeke (সহকারী গ্রাম্য পুরোহিত)
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি : নায়েক প্রধান পুরোহিতের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রধান পুরোহিত না থাকলে, তিনিই ধর্মীয় কার্যাবলি পরিচালনা করেন।
বৃহত্তর গ্রামসভা (Village Assembly)
গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ
কুলহি দুড়ুপ-এর কার্যাবলি
কুলহি দুড়ুপ বা গ্রাম্য পরিষদের কাজ মূলত ৬টি প্রধান ক্ষেত্রে বিভক্ত:
১. বিচার বিভাগীয় কার্যাবলি (ন্যায়বিচার প্রদান)
| বিচারের ধরন | উদাহরণ |
|---|---|
| পারিবারিক বিবাদ | স্বামী-স্ত্রীর কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব, সম্পত্তি বণ্টন। |
| সামাজিক অপরাধ | ব্যভিচার, পরকীয়া, কুপ্রথা (যৌতুক, বাল্যবিবাহ), গুন্ডামি। |
| অর্থনৈতিক অপরাধ | জমি দখল, ফসল চুরি, ঋণের বিবাদ, প্রতারণা। |
| প্রথা লঙ্ঘন | ধর্মীয় আচার না মানা, উৎসবে উপেক্ষা, গ্রাম্য আইন ভঙ্গ। |
| হিংসাত্মক ঘটনা | মারামারি, চুরি, ভাঙচুর, সংঘর্ষ। |
- অভিযোগ আসলে মাঝি সব পক্ষকে ডেকে শোনেন।
- সাক্ষী ও প্রমাণ যাচাই করা হয়, যেমন প্রত্যক্ষদর্শী, হলফনামা বা শপথ।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবাই একমত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদি মতবিরোধ থাকে, তাহলে ভোটাভুটি হয়।
- কোনো পক্ষ আইনজীবী রাখতে পারে না, সবাই সরাসরি নিজের কথা বলে।
- রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় পারগানা কাউন্সিল বা দিশম হড়-এ।
২. প্রশাসনিক ও শাসন কার্যাবলি
- নতুন নিয়ম প্রণয়ন: গ্রামের চাহিদা অনুযায়ী আইন তৈরি করে (যেমন: মদের উপর নিষেধাজ্ঞা, বন সংরক্ষণ)। (Bangladesh: Select mangrove laws, n.d.)
- শৃঙ্খলা রক্ষা: রাতে চলাচলের নিয়ম, পশু চরানোর সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। (The Prevention Of Cruelty To Animals (Transport Of Animals On Foot) Rules, 2001, n.d.)
- অর্থ সংগ্রহ: জরিমানা, চাঁদা বা উৎসবের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়। (Rahman & Hossain, 2022, pp. 45-67)
- পরিকাঠামো দেখভাল: গ্রামের রাস্তা, পুকুর, সাঁকো ও জাহের থান (পূজাস্থল) মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। (Rahman et al., 2020, pp. 45-60)
- আপৎকালীন ব্যবস্থাপনা: দুর্ভিক্ষ, বন্যা বা আগুন লাগলে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যাবলি
নায়কে ও কুডাম নায়কে-এর নেতৃত্বে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়:
উৎসব আয়োজন: সোহরায়, বাহা, সাকরাত, মাঘ সিম, ফুল দশহরা ইত্যাদি উৎসবের তারিখ ও পদ্ধতি নির্ধারণ।
পূজা ও যজ্ঞ: জাহের থান, মাঝি থান, আরাম থান ইত্যাদিতে পূজার আয়োজন, পশুবলির নিয়মকানুন।
সংস্কার অনুষ্ঠান: বিবাহ, অন্নপ্রাশন, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, মৃতের আত্মার শান্তির জন্য ‘চলাবহা’ অনুষ্ঠান পরিচালনা।
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা: নাচ, গান, আবৃত্তির আসর করে যুবসমাজকে উৎসাহিত করা।
৪. সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন কার্যাবলি
- গরিব ও অসহায়দের জন্য খাবার, কাপড় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। (Islam et al., 2019, pp. 1-16)
- বিধবা ও অনাথদের নিয়মিত সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। (Bharat Sevashram Sangha, 2026)
- অতিরিক্ত মদ্যপান ও তামাক আসক্তি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- গ্রামের বালিকা ও শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পিতামাতাদের উৎসাহিত করা। (Swapnanagar Bidyaniketon, n.d.)
- স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে টিকা দেওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং মাতৃমৃত্যু কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। (Expanded Programme on Immunization (EPI) Factsheet 2023: Bangladesh, 2023)
৫. অর্থনৈতিক ও কৃষি সংক্রান্ত নীতিমালা ও কার্যক্রম
- জমি বণ্টন ও রেকর্ড সংরক্ষণ: প্রতিটি পরিবারের চাষকৃত জমির নথি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হবে। (Rahman & Rahman, 2015, pp. 1-20)
- ফসল সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধি: ফসল সম্পূর্ণরূপে পাকার পূর্বে কর্তন নিষিদ্ধ এবং চুরির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (Forest and Tree Conservation Ordinance, 2026 Issued, 2026)
- পশুপালন নিয়ন্ত্রণ: পশুর সংখ্যা ও চারণভূমি নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। (Cruelty to Animals Act, 1920, n.d.)
- শিকার ও বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা: শিকার ও মাছ ধরার নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিধি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। (Protection and Conservation of Fish Act, 1950, n.d.)
৬. বহির্বিশ্বের সাথে সংযোগ এবং প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব
- সরকার এবং জেলা প্রশাসনের নিকট গ্রামের দাবিসমূহ উপস্থাপন করা, যেমন রাস্তা, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা। (হালিম, 2019, pp. 123-145)
- পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান এবং আদালতের সাথে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা। (Rahman & Rahman, 2019, pp. 45-60)
- সাংবাদিক এবং গবেষকদের যথাযথ তথ্য প্রদান করা। (Doe & Smith, 2020, pp. 45-67)
- আন্তঃগ্রাম মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
🏡 গ্রাম স্তর: কুলহি দুড়ুপ
- মাঝি (Manjhi): গ্রামপ্রধান ও সভাপতি
- পারানিক (Parmanik): মাঝির প্রধান সহকারী
- জগ মাঝি (Jog Manjhi): সহকারী গ্রামপ্রধান ও নৈতিক অভিভাবক
- জগ পারানিক (Jog Parmanik): পারানিকের সহকারী
- গডেৎ (Gadet): সচিব ও বার্তাবাহক
- নায়কে (Naike): প্রধান গ্রাম্য পুরোহিত
- কুডাম নায়কে (Kudam Naike): সহকারী পুরোহিত (Roy, 1912)
🤝 আন্তঃগ্রাম স্তর: পারগানা কাউন্সিল
- গঠন: কয়েকটি গ্রাম মিলে এই কাউন্সিল গঠিত হয়, যাকে ‘পীর’ (Pirh) নামেও ডাকা হয় (Panchagarh Sadar Upazila, 2024)। এটি সাধারণত মধ্যস্থতাকারী ও আপিল বোর্ডের মতো কাজ করে (Pir-pargana: 1 definition, 2023)।
- নেতৃত্ব: পরগনার নেতৃত্বে থাকেন একজন ‘পারগানা প্রধান’ বা ‘মাঝি হাড়াম’। তবে অঞ্চলভেদে এই পদবী ও গঠনে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে (Roy, 1912)। উল্লেখযোগ্য, ব্রিটিশ আমলে সাঁওতাল পরগনা’ নামে একটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠিত হয়েছিল, যার নামকরণে এই প্রথাগত কাঠামোর প্রভাব দেখা যায় (Editors, 2026)।
- ভূমিকা: পারগানা কাউন্সিলের প্রধান কাজ হলো গ্রাম-পরিষদের বাইরে থাকা জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিশেষ করে আন্তঃগ্রাম বিরোধ বা ধর্মীয় আচার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো এখানে নিষ্পত্তি হয় (Roy, 1912)।
🌐 আঞ্চলিক স্তর: দিশম হড় ( কাউন্সিল)
- গঠন ও সভা: এই কাউন্সিল সাধারণত বছরে একবার বা বিশেষ প্রয়োজনে বসত (Clergy Advisory Council | Laurel, MD, n.d.)। ‘ল বির সেন্দরা’ (শিকার) বা ‘মাঘ সিম’-এর মতো বড় উৎসবের সময় সাঁওতালরা একত্রিত হলে তখন এই সর্বোচ্চ পরিষদের সভা হতো।
- ভূমিকা: পুরো সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জন্য যুদ্ধ ও শান্তি স্থাপন, জমি ও সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা, কঠিন মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া এবং নতুন আইন ও নিয়ম তৈরি করার অধিকার ছিল ‘দিশম হড়’-এর (More Hor: The Council of Five in Santal Society – A Pillar of Tribal Governance, 2025)।
বিশেষত্ব: সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও শাস্তির ধরন
| শাস্তি | বিস্তারিত |
|---|---|
| মৌখিক তিরস্কার | ছোটখাটো অপরাধে সভায় লজ্জা দেওয়া। |
| জরিমানা | অর্থ, গবাদি পশু, বা কিছু পরিমাণ চাল দিতে হয়। |
| ক্ষতিপূরণ | ভুক্তভোগীকে ফেরত দিতে হয়। |
| প্রায়শ্চিত্ত আচার | ভুল স্বীকার করে গোটা গ্রামের সামনে ক্ষমা চাওয়া ও পূজা দেওয়া। |
| সাময়িক বহিষ্কার | কয়েকদিন বা মাস সবার সাথে মিশতে না দেওয়া, উৎসবে অংশ নিতে না দেওয়া। |
| শারীরিক শাস্তি | মারধর (বিরল, শুধুমাত্র চরম অপরাধে)। |
| চিরস্থায়ী বহিষ্কার | অতি গুরুতর অপরাধে (যেমন হত্যা) আজীবনের জন্য গ্রাম ছেড়ে যেতে বলা। |
একটি উদাহরণ
প্রক্রিয়া: মালিক অভিযোগ দেয়। মাঝি সভা ডাকেন, চোরকে আনা হয়, চুরির প্রমাণ মেলে। চোর স্বীকার করে নেয়।
রায়: চোরকে ধানের দ্বিগুণ মূল্য জরিমানা দিতে হয় (এক অংশ ভুক্তভোগীকে, এক অংশ গ্রামের তহবিলে)। পাশাপাশি, তাকে গ্রাম্য দেবতার কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি মোরগ বলি দিতে হয়। তিন মাস সে কোনো উৎসবে ঢোল বাজাতে পারবে না। (Pal et al., 2019)
ফলাফল: চোর পরবর্তীতে কখনও চুরি করে না, অন্যদেরও ভয় পায়।
বর্তমান অস্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য
- বেঁচে থাকা পদ্ধতি: আধুনিক ভারতের পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার সমান্তরালে এটি টিকে আছে। বিশেষত প্রত্যন্ত সাঁওতাল অঞ্চলগুলিতে এর প্রভাব এখনও অক্ষুণ্ণ। বিচারকার্য পরিচালনার পাশাপাশি বাহা পরব, সোহরায়ের মতো উৎসব আয়োজনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রভাব ও আওতা: বর্তমানে কুলহি দুড়ুপের প্রভাব প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আধা-নগর এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। (Roy, 1953) এই পদ্ধতির মাধ্যমে পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ, বিবাহবিচ্ছেদ, দেনা-পাওনা, চুরি ইত্যাদি নাগরিক মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। তবে হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলার বিচার এখানে ক্রমশ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আধুনিকীকরণ ও সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ
- আধুনিক আইনের দিকে ঝোঁক: আধুনিক শিক্ষা ও সচেতনতার প্রভাবে সাঁওতালরা নিজেরাই মামলা-মোকদ্দমার জন্য সরকারি আদালতের দিকে ঝুঁকছে। ফলে কুলহি দুড়ুপের আওতার বাইরে গিয়ে পুলিশে অভিযোগ বা দেওয়ানি মামলা করার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। (Biswas, 2014)
- রাজনৈতিক প্রভাব: গ্রামীণ রাজনীতি ও দলীয় কোন্দল কুলহি দুড়ুপের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে কিছু গ্রামে বিভাজন সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাম পরিষদের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
- অস্তিত্বের ওপর হুমকি: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৪ সালে গ্রাম পর্যায়ে লিঙ্গ-সম্পর্কিত যেকোনো মামলার বিচারকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে। এই রায়ের ফলে কুলহি দুড়ুপের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি দেখা দিয়েছে। যদিও রায়ের পরেও কুলহি দুড়ুপ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আইনি ভিত্তি নিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক: সংযোগ ও সংঘাত
- সমন্বয়: গ্রামের নেতারা প্রায়ই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে কাজ করেন। তারা গ্রামের উন্নয়নের জন্য পঞ্চায়েতের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নেন।
- সাংবিধানিক স্বীকৃতি: ভারতীয় সংবিধানের পঞ্চম তফসিল স্বীকৃত এলাকাগুলিতে প্রথাগত আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে। (India, 1950) তবে কুলহি দুড়ুপের ক্ষমতা ও বৈধতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন আছে।
- দ্বৈত ব্যবস্থা: সাঁওতাল সমাজের অনেক মানুষ এখন রাষ্ট্রীয় ও প্রথাগত দুই ব্যবস্থার সুবিধা নিচ্ছেন। (Kumar & Sharma, 2022, pp. 123-145) সহজ ও দ্রুত বিচার পাওয়ার জন্য তারা প্রথাগত ব্যবস্থার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
বর্তমানে বিদ্যমান কিছু উদ্বেগ ও সমালোচনা
- বিচারের স্বাধীনতা ও প্রকৃতি: বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মতো জেলায় মাঝি-পরিষদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবীণ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত। সেখানকার অনেক বিচার প্রক্রিয়ায় নারীরা প্রায় উপস্থিত থাকতে পারেন না, এবং বিশেষ করে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত মামলায় কখনো কখনো তা অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক চাপ দ্বারা প্রভাবিত হয়।