
মাঝি পারগানা ব্যাবস্থা পুরো সাঁওতাল সমাজের সম্মিলিত একটি প্রতিষ্ঠান। ডব্লিউ.জি. আর্চার বলেছেন, সাঁওতালদের প্রথাগত আইনের একটি উন্নত ব্যবস্থা আছে, যা তাদের বিশ্বাস, সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। (Archer, 1984) কোনো আইন কার্যকরভাবে চলতে হলে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হতে হলে, সবার সম্মিলিত অনুমোদন ও আনুগত্য দরকার। তাই মাঝি পারগানা ব্যাবস্থাকে পুরো আদিবাসী সমাজের সৃষ্টি হিসেবে দেখা হয়।
কুলহী দুড়ুপ : মাঝি পারগানা ব্যাবস্থার প্রথম স্তর
- জন্ম, দীক্ষা ও মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা
- বার্ষিক উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ
- বহির্বিবাহের নিয়ম যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করা
- সামাজিক বিধি ও নৈতিকতা রক্ষা করা
- গ্রামবাসীর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করা
- প্রথাগত আইন কার্যকর রাখা
আতু মড়ে হড়
আতু মড়ে হড় ও তাঁদের ভূমিকা
গ্রামের কূপ, রাস্তা, বাঁধ, চারণভূমি ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাঁর উপর বর্তায়।
(Behera, 2026) প্রয়োজনে তিনি গ্রামের শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে এই সম্পত্তিগুলোর মেরামত করাতে পারেন।
যদি কোনো বোঙ্গার পবিত্র গাছ মারা যায়, তবে নায়কের সাহায্যে সেই বোঙ্গাকে অন্য গাছে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করতে হয়। (Marandi & Bodra, 2021) কোনো মৃত পবিত্র গাছ অপসারণের দায়িত্বও তাঁর।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেন যে গ্রামের সমস্ত উৎসব, যজ্ঞ, জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহসংক্রান্ত অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে এবং গ্রামের প্রতিটি পরিবার তাতে অংশগ্রহণ করছে। (Hutton, 1921) গ্রামে মহামারী বা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে তিনি সভা ডাকেন এবং বিশেষ বলিদানের আয়োজন করেন।
পারানিক: মাঞ্জির সহকারী
জগ মাঞ্জি: যুবসমাজের নৈতিক রক্ষক
জগ পারানিক ও গডেৎ
সাঁওতাল আইন ও সামাজিক ঐক্য
সাঁওতাল বিচারব্যবস্থার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সামষ্টিক চরিত্র। এখানে বিচার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা শাস্তির জন্য নয়, বরং সমাজে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনার জন্য হয়। এজন্য বিচারপ্রক্রিয়ায় গ্রামের সাধারণ সদস্যদের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (Sinha, 1977) সাধারণত, কোনো বিরোধ বা সমস্যা হলে, উভয় পক্ষ, গ্রাম্য প্রধান এবং আগ্রহী গ্রামবাসীরা নির্ধারিত স্থানে একত্রিত হন।